আমালবিবিধ

সৌভাগ্যময় আমলঃ ফেরেশতাদের আলোচিত আমল

167 বার পড়া হয়েছে।

হাদীছক্রম ১

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাছ (রা.) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আজ রাতে আমার মহান ও বারাকাতময় প্রভু সবচেয়ে সুন্দর চেহারায় আমার নিকট এসেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মতে তিনি বলেছেন ঘুমের মধ্যে স্বপ্নযোগে। তারপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তুমি কি জান? এই সময় উচ্চতরজগতের অধিবাসিরা কী নিয়ে বিবাদ করছে? রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি বললাম না। তিনি তাঁর হাত আমার দু্ কাঁধের মধ্যখানে রাখলেন এমনকি আমি আমার দুই স্তনের বা বুকের মাঝে এর শীতলতা অনুভব করলোম । আছমান যমীনে যা কিছু আছে আমি তা অবগত হলাম। তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তুমি কি জান এই সময় উচ্চতর জগতের অধিবাসিরা কী নিয়ে বিবাদ করছে? আমি বললাম হ্যাঁ । কাফফারাত নিয়ে বিবাদ করছে আর কাফফারাত হল সালাতের পর মাছজিদে বসে থাকা, সালাতের জামায়াতে উপস্থিতির জন্য হেঁটে যাওয়া এবং কষ্টকর সময়েও উত্তমভাবে উযু করা। যে লোক এসব কাজ করবে সে কল্যাণের মধ্যে বেঁচে থাকবে, কল্যাণের সাথে মরবে এবং তার জন্মদিনের মত গোনাহ হতে পবিত্র হয়ে যাবে।  আল্লাহ তায়ালা আরো বললেন, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তুমি যখন সালাত আদায় করবে তখন এই দোয়া পড়বে, اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ، وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ، وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ، وَإِذَا أَرَدْتَ بِعِبَادِكَ فِتْنَةً فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مَفْتُونٍ

{হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ভালো কাজ করার, খারাপ কাজ ত্যাগ করার এবং গরীব নিঃস্বদের ভালোবাসার মনোষ্কামনা চাই। আপনি যখন আপনার বান্দাদের কঠিন পরীক্ষায় নিক্ষেপ করার ইচ্ছা করেন তখন আমাকে এই ফিৎনায় জড়িয়ে পড়ার আগেই আপনার নিকট উঠিয়ে নেন} রসূলুল্রাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেন, দারাজাত ও মর্যাদার স্তরে উত্তীর্ণ হওয়ার উপায় হল ছালামের প্রচার-প্রসার ঘটানো, মানুষকে খাওয়ানো এবং রাতের অন্ধকারে মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে তখন (তাহাজ্জুদ) সালাত আদায় করা।  (তিরমিযী, হাদীছ নং ৩২৩৩)

আলবানীর তাহকীকঃ হাদীছটি সহীহ।

হাদীছক্রম ২

হযরত মু’আয ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন সকালে হযরত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সাথে ফজরের সালাত আদায় করতে আসায় বাধাপ্রাপ্ত হন। এমনকি আমরা সূর্য উদিত হয়ে যাওয়ার আশংকা করলাম। তিনি তাড়াতাড়ি বের হয়ে এলে সালাতের জন্যে ইকামাত দেওয়া হল। হযরত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংক্ষেপে সালাত আদায় করলেন। তিনি সালাম ফিরানোর পর উচ্চস্বরে আমাদেরকে ডেকে বললেনঃ তোমরা যেভাবে সারিবদ্ধ অবস্থায় আছ সেভাবেই থাকো। অতঃপর তিনি আমাদের দিকে ফিরে বসলেন এরপর বললেনঃ সকালে তোমাদের কাছে আসতে কিসে বাধাগ্রস্থ করছে তা এখনই তোমাদেরকে বলছি। আমি রাতে উঠে উযু করলাম এবং সাধ্য অনুযায়ি সালাত আদায় করলাম। সালাতের মধ্যে আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। অতঃপর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। এমন সময় আমি আমার বারাকাতময় রবকে খুব সুন্দর অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখতে পেলাম। তিনি বললেন হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি বললাম ইয়া রব আমি উপস্থিত। তিনি বললেন উর্দ্ধজগতের অধিবাসিগণ (বিশেষ ফেরেশতাগণ) কী ব্যাপারে বিতর্ক করছে? আমি বললাম ইয়া রব আমি জানি না। আল্লাহ তায়ালা এই কথা তিনবার বললেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তাঁকে দেখলাম যে, তিনি তাঁর হাতের তালু আমার দুই কাঁধের মাঝে রাখলেন। আমি আমার বক্ষস্থলে তাঁর হাতের আঙ্গুলের শীতলতা অনুভব করলাম। ফলে প্রতিটি জিনিস আমার নিকট আলোকাদ্ভাসিত হয়ে উঠল। এবং আমি তা জানতে পারলাম। আল্লাহ তায়ালা বললেন হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! আমি বললাম ইয়া রব আমি আপনার নিকট হাযির। ।তিনি বললেন উদ্ধজগতের অধিবাসিগণ কী ব্যাপারে বিতর্ক করছে? আমি বললাম কাফফারাত নিয়ে। তিনি বললেন, সেগুলো কী? আমি বললাম হেঁটে সালাতের জামায়াতে হাযির হওয়া, সালাত আদায়ের পর মাছজিদে বসে থাকা এবং কষ্টকর অবস্থায়ও উত্তমরূপে উযু করা। তিন বললেন, তারপর কী বিষয়ে তারা বিতর্ক করছে? আমি বললাম খাদ্যপ্রার্থীকে আহার্য দান, নম্রতার সাথে কথা বলা এবং রাতে মানুষেরা যখন ঘুমিয়ে পড়ে সেই সময় সালাত আদায় করার বিষয়ে।  আল্লাহ তায়ালা বললেন, তুমি কিছু চাও, আমি বললামঃ

اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ، وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ، وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ، وَأَنْ تَغْفِرَ لِي وَتَرْحَمَنِي، وَإِذَا أَرَدْتَ فِتْنَةً فِي قَوْمٍ فَتَوَفَّنِي غَيْرَ مَفْتُونٍ، وَأَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُّحِبُّكَ، وَحُبَّ عَمَلٍ يُقَرِّبُ إِلَى حُبِّكَ

{ইয়া আল্লাহ আমি আপনার কাছে ভালো ও কল্যাণকর কাজ সম্পাদনের, মন্দ কাজসমুহ বর্জনের, দরিদ্রজনের ভালোবাসার তাওফীক চাই।  (আমি চাই যে) আপনি আমাকে ক্ষমা করেন ও দয়া করেন।  আপনি যখন কোন গোত্রকে বিপদে ফেলার ইচ্ছা করেন তখন আপনি আমাকে বিপদমুক্ত রেখে আপনার কাছে তুলে নিবেন। আমি আপনার মাহাব্বাত চাই, মাহাব্বাত চাই তার যে আপনাকে মাহাব্বাত করে এবং এমন কাজের মাহাব্বাত যা আপনার মাহাব্বাতের নিকটবর্তী করে দেয়}

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন স্বপ্নটি অবশ্যই সত্য।  অতএব তোমরা এটা পড়, অতঃপর শিখে নাও। (তিরমিযী, হাদীছ নং ৩২৩৫)

ইমাম তিরমিযী (র.) বলেন, এই হাদীছটি হাছান, সহীহ। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইছমাঈলকে {ইমাম বুখারীকে (র.)} এই হাদীছের ছনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন এই হাদীছের ছনদ হাছান সহীহ)

আলবানীর তাহকীকঃ হাদীছটি সহীহ।

4 2 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Comment here