আপনার জিজ্ঞাসাফাতাওয়া

মাসজিদে দুনিয়াবী কথা বলার হুকুম

139 বার পড়া হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

{ وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا (الجن 18) }

মাছজিদসমুহ আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করার জন্য। কাজেই তোমরা আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে ডেকো না। (সূরা জ্বিন, আয়াত নং ১৮)

وأن المساجد لعبادة الله وحده، فلا تعبدوا فيها غيره، وأخلصوا له الدعاء والعبادة فيها؛ فإن المساجد لم تُبْنَ إلا ليُعبَدَ اللهُ وحده فيها، دون من سواه، وفي هذا وجوب تنزيه المساجد من كل ما يشوب الإخلاص لله، ومتابعة رسوله محمد صلى الله عليه وسلم

নিশ্চয়ই মাছজিদ সমুহ শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার ইবাদাতের জন্য।  কাজেই তোমরা তার মধ্যে আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদাত করো না। তোমরা মাছজিদের মধ্যে নিখাদভাবে শিরকবিহিন আল্লাহকে ডাকো ও তাঁর ইবাদাত করো। কেননা মাছজিদ নির্মিত হয়েছে শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার ইবাদাতের জন্য। ইবাদাত ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে মাছজিদ নির্মিত হয়নি। এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ইবাদাতের মধ্যে ত্রুটি (ভেজাল) এসে যায় এমন প্রত্যেক জিনিস থেকে মাছজিদকে পবিত্র রাখা আবশ্যক এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের অনুসরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন বিষয় থেকে মাছজিদকে পবিত্র রাখা আবশ্যক।  (তাফছীরে মুয়াচ্ছার)

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي خَرَابِهَا أُولَئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَنْ يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآَخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ (البقرة 114)

যে ব্যক্তি আল্লাহর মাছজিদসমুহে তার নামের যিকির করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে, তার চেয়ে বড় জালেম আর কে? এদের পক্ষে মাছজিদসমুহে প্রবেশ করা বিধেয় নয়, অবশ্য ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায়।  তাদের জন্য ইহকালে লাঞ্চনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে।  (সূরা বাকারাহ, আয়াত নং ১১৪)

এই আয়াতটি বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হয় কিন্তু তার হুকুম আম।

মাছজিদে যিকির ও সালাত আদায়ে বাধা দেওয়ার যত পন্থা হতে পারে, সে সবগুলোই হারাম। এর মধ্যে একটি পন্থা এই যে, “মাছজিদে হট্টগোল করে অথবা আশপাশে গান-বাজনা করে মুসাল্লীদের সালাত ও যিকিরে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। এমনিভাবে সালাতের সময় যখন মুসাল্লীগণ নফল সালাত, তাসবীহ, তিলাওয়াত ইত্যাদিতে নিয়োজিত থাকেন, তখন মাছজিদে সরবে তিলাওয়াত ও যিকির করা এবং মুসাল্লীদের সালাতে বিঘ্ন সৃষ্টি করাও বাধা প্রদানের নামান্তর। একারণেই ফিকহবিদগণ একে নাজায়িয আখ্যা দিয়েছেন।  তবে, মাছজিদে যখন মুসাল্লী না থাকে, তখন সরবে তিলাওয়াত ও যিকির করায় কোন দোষ নেই। (তাফছীরে মা’আরিফুল কুরআন, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ২৮২)

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীছঃ

7916 – حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ بُنْدَارٍ الزَّاهِدُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ بَكْرٍ الْبَالِسِيُّ، ثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، ثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَتَحَلَّقُونَ فِي مَسَاجِدِهِمْ وَلَيْسَ هِمَّتُهُمْ إِلَّا الدُّنْيَا لَيْسَ لِلَّهِ فِيهِمْ حَاجَةٌ فَلَا تُجَالِسُوهُمْ» هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ “— المستدرك على الصحيحين للحاكم

[التعليق – من تلخيص الذهبي] 7916 – صحيح

হযরত আনাছ ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মানুষের কাছে এমন এক যামানা আসছে যখন তারা মাছজিদে গোলাকার হয়ে বসবে।  তাদের উদ্দেশ্য শুধু দুনিয়াবী কথা বলা।  এমন লোকদের আল্লাহ তায়ালার কোন প্রয়োজন নেই। কাজেই তোমরা এমন লোকদের সাথে বসো না।  (আল মুসতাদরাক, হাদীছ নং ৭৯১৬)

# যাহাবী (র.) তার তালখীছের মধ্যে উল্লেখ করেন, হাদীছটি সহীহ।

10452 – حَدَّثَنَا عَبْدَانُ بْنُ أَحْمَدَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ صُدْرَانَ، ثنا بَزِيغٌ أَبُو الْخَلِيلِ الْخَصَّافُ، ثنا الْأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَيَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ يَجْلِسُونَ فِي الْمَسَاجِدِ حِلَقًا حِلَقًا، إِمَامُهُمُ الدُّنْيَا، فَلَا تُجَالِسُوهُمْ؛ فَإِنَّهُ لَيْسَ لِلَّهِ فِيهِمْ حَاجَةٌ» — المعجم الكبير للطبرانى

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাছউদ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শেষ যামানায় এমন এক শ্রেণির লোক হবে, যারা মাছজিদে গোল হয়ে বসবে, যাদের উদ্দেশ্য হবে দুনিয়া (অর্থাৎ তারা দুনিয়ার কথা আলোচনা করবে)। তোমরা তাদের সাথে বসবে না। কারণ তাদেরকে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।

(তাবারানীর আল মু’জামুল কাবীর, হাদীছ নং ১০৪৫২)

আলবানীর তাহকীকঃ হাদীছটি সহীহ।  (আল ছিলছিলাতুস সহীহাহ মুখতাসারাহ, খণ্ড নং ৩ পৃষ্ঠা নং ১৫১)

قال الطيبي: هو كناية عن براءة الله تعالى عنهم، وخروجهم عن ذمة الله  হযরত তীবী (র.) বলেন, “তাদেরকে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই” এই কথার অর্থ হল আল্লাহ তায়ালা তাদের থেকে মুক্ত আর এই শ্রেণির লোকও আল্লাহ তায়ালার যিম্মাদারী থেকে মুক্ত।  (মিরআতুল মাফাতিহ)

2701 – أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْفَقِيهُ، حدثنا أَبُو بَكْرٍ الْقَطَّانُ، حدثنا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: ذَكَرَ سُفْيَانُ، عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِهِ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَكُونُ حَدِيثُهُمْ فِي مَسَاجِدِهِمْ فِي أَمْرِ دُنْيَاهُمْ، فَلَا تُجالِسُوهُمْ، فَلَيْسَ لِلَّهِ فِيهِمْ حَاجَةٌ ” هَكَذَا جَاءَ مُرْسَلًا — شعب الايمان

হযরত হাছান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অতি শীঘ্রই এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ মাছজিদে বসে নিজেদের দুনিয়াদারীর কথা বলবে। অতএব তোমরা এসব লোকদের গল্প-গুজবে বসবে না। আল্লাহ তায়ালার এমন লোকের প্রয়োজন নেই।  (শুয়াবুল ঈমান, হাদীছ নং ২৭০১)

(فَلَيْسَ لِلَّهِ فِيهِمْ) ، أَيْ: فِي إِتْيَانِهِمْ إِلَى الْمَسْجِدِ وَعِبَادَتِهِمْ فِيهِ (حَاجَةٌ) : هِيَ كِنَايَةٌ عَنْ عَدَمِ قَبُولِ طَاعَتِهِمْ.

মোল্লা আলী ক্বারী (র.) বলেন,“তাদেরকে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই” এই কথার অর্থ হল, তাদের মাছজিদে আসা যাওয়া ও ইবাদাত বন্দেগীর আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।  অর্থাৎ তাদের ইবাদাত কবুল হবে না।

তীবী (র.) বলেন,

وَفِيهِ تَهْدِيدٌ عَظِيمٌ لِأَجْلِ ظُلْمِهِمْ وَوَضْعِهِمُ الشَّيْءَ فِي غَيْرِ مَوْضِعِهِ ; لِأَنَّ الْمَسْجِدَ لَمْ يُبْنَ إِلَّا لِلْعِبَادَاتِ  (مرقاة المفاتيح 2\622)

এর মধ্যে বড় একটা ধমকানী আছে।  কারণ এটা তাদের জুলুম এবং মাছজিদের উদ্দেশ্য বহির্ভূত পদক্ষেপ। মাছজিদতো গঠন করা হয়েছে শুধুমাত্র ইবাদাত বন্দেগীর জন্য।

1079 – حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الشِّرَاءِ وَالْبَيْعِ فِي الْمَسْجِدِ، وَأَنْ تُنْشَدَ فِيهِ ضَالَّةٌ، وَأَنْ يُنْشَدَ فِيهِ شِعْرٌ، وَنَهَى عَنِ التَّحَلُّقِ قَبْلَ الصَّلَاةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ» — ابو داود

 [حكم الألباني] : حسن

হযরত আমর ইবনে শুয়াইব তিনি তার পিতা থেকে তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাছজিদে বেচা কেনা করতে, হারানো জিনিস তালাশ করতে এবং কবিতা আবৃত্তি করতে নিষেধ করেছেন।  তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো নিষেধ করেছেন জুমুআর দিন সালাতের পূর্বে গোলাকার হয়ে বসতে।  (আবু দাউদ, হাদীছ নং ১০৭৯)

আলবানীর তাহকীকঃ হাদীছটি হাছান।

1305 – نا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، ثنا النُّفَيْلِيُّ، نا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ خُصَيْفَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَبِيعُ أَوْ يَبْتَاعُ فِي الْمَسْجِدِ فَقُولُوا: لَا أَرْبَحَ اللَّهُ تِجَارَتَكَ، وَإِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَنْشُدُ فِيهِ ضَالَّةً فَقُولُوا: لَا أَدَّى اللَّهُ عَلَيْكَ ” قَالَ أَبُو بَكْرٍ: لَوْ لَمْ يَكُنِ الْبَيْعُ يَنْعَقِدُ لَمْ يَكُنْ لِقَوْلِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا أَرْبَحَ اللَّهُ تِجَارَتَكَ» مَعْنًى — صحيح ابن خزيمة

[التعليق] 1305 – قال الأعظمي: إسناده صحيح

হযরত আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন হযরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন তোমরা যখন দেখ কেউ মাছজিদে কেনা বেচা করছে তখন তোমরা বল, আল্লাহ তায়ালা তোমার ব্যবসাকে লাভশুন্য করুন।  আর যখন তোমরা দেখ যে কেউ মাছজিদে তার হারানো জিসিন খোঁজ করছে তখন তোমরা বল, আল্লাহ যেন তোমাকে তা ফিরিয়ে না দেন।  (সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীছ নং ১৩০৫)

আজামী বলেন, এই হাদীছের ইছনাদ সহীহ।

عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ سَمِعَ قَوْمًا اجْتَمَعُوا فِي مَسْجِدٍ يُهَلِّلُونَ وَيُصَلُّونَ عَلَيْهِ – عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ – جَهْرًا فَرَاحَ إلَيْهِمْ وَقَالَ مَا عَهِدْنَا ذَلِكَ عَلَى عَهْدِهِ – عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ – وَمَا أَرَاكُمْ إلَّا مُبْتَدِعِينَ فَمَا زَالَ يَذْكُرُ ذَلِكَ حَتَّى أَخْرَجَهُمْ مِنْ الْمَسْجِدِ — غمز عيون البصائر بشرح الأشباه والنظائر

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাছউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, (একদা) তিনি মাছজিদের মধ্যে কিছু লোককে একত্রিত হয়ে উচ্চস্বরে তাছবীহ-তাহলীল ও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করতে শুনলেন।  তিনি তাদের কাছে গেলেন এবং বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে এমন (পদ্ধতি) অবলোকন করিনি। আমি তোমাদেরকে বিদয়াতি ছাড়া অন্য কিছু বলে মনে করি না। এই কথা তিনি বার বার বলছিলেন। অবশেষে তিনি তাদেরকে মাছজিদ থেকে বের করে দিলেন।  (আল আশবাহ ওয়ান্নাযায়ির)

13219 – حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ نَجْدَةَ الْحَوْطِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ الْوُحَاظِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي قَبِيلٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَتَّخِذُوا الْمَسَاجِدَ طُرُقًا إِلَّا لِذِكْرٍ أَوْ صَلَاةٍ» — المعجم الكبير للطبرانى

وقال الأرنؤوط وهذا إسناد حسن، وقال المنذري في “الترغيب والترهيب” 1/ 205: لا بأس به.

(لا تتخذوا المساجد طرقًا) للحاجات بل لا يدخل (إلا لذكر أو صلاة) لأنها لذلك عمرت وقراءت العلم النافع داخلة تحت الذكر — التنوير شرح الجامع الصغير

হযরত সালেম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা মাসজিদকে (নিজেদের দুনিয়াবী) প্রয়োজন পূরণ করার রাস্তা বানিয়ো না; বরং সেখানে একমাত্র আল্লাহর যিকির অথবা সালাত আদায়ের জন্য গমন কর।

(তাবারানী কৃত আলমু’জামুল কাবীর। হাদীস নং ১৩২১৯)

শুয়াইব আল আরনাঊত বলেন, হাদীসটির ইসনাদ সহীহ। ইমাম মুনযিরী তারগীব ও তারহীবের মধ্যে বলেন, হাদীসটি আপত্তিযুক্ত নয়।

 

সারকথাঃ  প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক হল এমন কাজ থেকে বিরত থাকা যা মাছজিদ নির্মানের উদ্দেশ্যকে ব্যহত করে।

মাছজিদের আসল উদ্দেশ্য হল (ক) আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত করা।  যার মধ্যে সালাত আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির, তা’লীম,ফিকাহ চর্চা, দ্বীনি আলোচনা ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত।

(খ) এমন কথা বা কাজ থেকে নিজে বিরত থাকা বা অন্যকে বিরত রাখা যা এই সমস্ত ইবাদাত থেকে অন্যমনস্ক করে দেয়।

এছাড়াও যে সকল কাজের সুযোগ আছেঃ ইমাম, আমীর বা কোন ফকীহ’র মাধ্যমে দ্বীন ও দুনিয়ার শরয়ী সমাধান দেওয়া ও নেওয়া, দ্বীনি হুকুমাত হলে বিশেষ প্রকার বিচারিক কাজ সমাধান করা, নির্দিষ্ট ইমাম, আমীর বা কোন ফকীহ’র অধীনে দ্বীনি পরামর্শ আদান প্রদান, বিশেষ প্রয়োজনে ইমাম, আমীর বা কোন ফকীহ’র আদেশে কোন বাতিলের প্রতিবাদ করা {যেমন হাচ্ছান (রা.)} এমনকি ইমামের উপস্থিতিতে কিছু আনন্দময় গল্প বা হাসি রস করা ইত্যাদি। নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাছজিদে কথা বলেছেন। জাহিলিয়াতের কিছু বর্ণনা দিয়েছেন, পরস্পরে হাসাহাসি করেছেন সহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত।  এগুলোর জন্য আমাদের প্রয়োগ বিধিও দেখতে হবে। উল্লেখ্য যদি এই কাজগুলো যে যার মত বা নিজস্ব আঙ্গিকে সমাধান করতে চায় বা করতে থাকে তবে প্রতিটি মাছজিদ বাজারে পরিণত হবে। যা বর্তমানে সবাই প্রত্যক্ষ করছেন। প্রতিটি মাছজিদে এ’লান করে পোষ্টার লাগিয়েও এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর মূল কারণ এটাও হতে পারে যে,এগুলোর ছুবুত হাদীছে আছে।  কিন্তু হাদীছের ব্যবহারটা যথেচ্ছা হয়ে যাচ্ছে।  আল্লাহই সর্ব বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

যখন উল্লেখিত এই কাজগুলো ইমাম, আমীর বা কোন ফকীহ’র অধীনে হবে আর বাকী মুসাল্লীগণ সেটাতে শরীক হবেন তখন এই কাজগুলো সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির, তা’লীম ইত্যাদির প্রতিবন্ধক হবে না বরং তা সকলের জন্য কল্যাণকর হবে।  এর বিপরীত হলে এই কাজগুলোই সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির, তা’লীমের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। যা মাছজিদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বস্তুর বিপরীত। যেমন, একটি মাছজিদের মধ্যে বেশ কিছু মুসাল্লী উপস্থিত।  এদের মধ্যে একটি দল হল, তারা ফিলিস্থিন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, আবার একটি দল করোনা ভাইরাস নিয়ে আলোচনা করছেন, অন্য একটি দল বাজার মুল্যের উর্দ্ধগতি নিয়ে আলোচনা করছেন। এভাবে কয়েকটি দল হল।  জিদের বশীভূত না হয়ে একটু গভীর চিন্তা করে বলেন, এখন মাসজিদের পরিবেশটা কোন দিকে যাবে।  অথচ এর প্রত্যেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর আলোচনা বৈধ করার জন্য যদি কেউ হাদীছ পেশ করতে চায় তবে সেটা পারবে। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, কে কোন বিষয় আলোচনা করবেন, সেই আলোচনার যোগ্য তিনি কিনা, বর্তমানে বিষয়টির প্রাসাঙ্গিকতা কতটুকু, কার অধীনে আলোচনা করবেন সে বিষয়গুলোও আমাদের নজর থেকে উবে গেলে হবে না। অনেক সময় এমন ঘটনা ঘটেছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাছজিদের মধ্যে সাহাবাদের (রা.) সাথে হেসেছেন, কথা বলেছেন আবার তিনি মাছজিদের মধ্যে  উচ্চস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করেছেন।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা (মাছজিদে) উচ্চস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করো না” ছনদসহ হাদীছটি হল,

8037 – أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مَالِكٍ قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ التَّمَّارِ، عَنِ الْبَيَاضِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «خَرَجَ عَلَى النَّاسِ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَقَدْ عَلَتْ أَصْوَاتُهُمْ بِالْقِرَاءَةِ» فَقَالَ: «إِنَّ الْمُصَلِّيَ يُنَاجِي رَبَّهُ فَلْيَنْظُرْ مَاذَا يُنَاجِيهِ بِهِ، وَلَا يَجْهَرُ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ فِي الْقُرْآنِ» — السنن الكبرى للنسائى

হযরত আবু হাযিম তাম্মার তিনি হযরত বায়াযী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একদা) মানুষের (মুসাল্লীদের) কাছে আসলেন তারা তখন সালাত আদায় করছিলেন। আর তারা উচ্চস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন।  অতঃপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই মুসাল্লীগণ একান্তে তার রবের সাথে কথা বলে। কাজেই তোমাদের গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত সে তার রবের সাথে সংগোপনে কী বলছে! তোমরা একে অপরে উচ্চস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করো না।  (নাসায়ীর আছ ছুনানুল কুবরা, হাদীছ নং ৮০৩৭)

কুরআন তিলাওয়াত সম্পর্কে যদি এমন আদেশ হয় তবে বিশেষভাবে বিবেচনা করার বিষয় হল, দুনিয়ার কথা হলে তার কী অবস্থা বা হুকুম হতে পারে – নিজেই চিন্তা করা।  সাথে সাথে বিবেচনা করা কখনও হুজুরে আকরাম (স.) মাছজিদে হেসেছেন আবার কখনও উচ্চ আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত নিষেধ করেছেন কেন? বোঝা যায় অবস্থা ভিন্নতায় হুকুম ভিন্ন হয়ে থাকে।  আর বর্তমানে আম্বিয়া (আ.) গণের ওয়ারিছগণ অবস্থা ভিন্নতায় কোন বিষয়ের কী হুকুম হবে সেটা বাতলিয়ে দিবেন আর সাধারণে সেই হুকুমের উপর চলবেন। নিজ থেকে কোন বিষয়ের হুকুম জারি করবেন না।

একটু চিন্তা, একটু বিবেচনাঃ অনেক বিদ্বান মাছজিদে কথা বলা সম্পর্কে কিছু মাওযু’ হাদীছ উল্লেখ করে প্রমাণ করেন যে, যেহেতু এই হাদীছগুলো মাওযু’ কাজেই মাছজিদে কথা বলাতে কোন অসুবিধা নেই। বরং এই মাওযু’ হাদীছগুলো বর্জন করতে মাছজিদে কথা বলার পক্ষে দলীল পেশ করতে উঠে পড়ে লেগে যান।  এগুলো বড় পরিতাপের বিষয়। যেটা হাদীছ নয় হাদীছ নামে সেগুলো হাদীছের ভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত হোক এটা কখনও কাঙ্খিত হতে পারে না। এই অযুহাতে মাছজিদে কথা বলার খারাবী সম্পর্কে সহীহ হাদীছগুলো পাশ কাটানোও কখনই সঙ্গত হতে পারে না।  যেমন, الْكَلاَمُ في الْمَسْجِدِ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَب এটাকে হাদীছ বলা হয়।  কিন্তু তাহকীকে যেটা দেখা যায় সেটা হল, এর ভীত নেই।  অনুরূপভাবে مَنْ تَكَلَّمَ في الْمَسْجِدِ بِكَلاَمِ الدُّنْيَا أَحْبَطَ اللَّهُ أَعْمَالَهُ أَرْبَعِينَ سَنَةً  এমনিভাবে আরো কিছু থাকতে পারে।  কিন্তু এগুলোর সুযোগে উপরে বর্ণিত হাদীছগুলোর গুরুত্বকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই।

মাছজিদে দুনিয়াবী কথা বলার সর্বোচ্চ ছাড়ঃ কথা বলার উদ্দেশ্যে মাছজিদে গমন না করে, নিতান্ত প্রয়োজনে, মুসাল্লীদের ইবাদাতের দিকে লক্ষ্য রেখে, সর্বনীম্ন কম সময়ের মধ্যে জায়িয কথা সেরে নেওয়া। কী কথা বলবেন, কতসময় বলবেন তার নির্ধারক হল গোনাহের ভয়। হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إِنَّ المُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ، وَإِنَّ الفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذُبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ» (البخارى 6308)

ঈমানদার ব্যক্তি তার গোনাহগুলোকে এত বিরাট মনে করে, যেন সে একটা পাহাড়ের নীচে বসে আছে। আর সে আশঙ্কা করছে যে, সম্ভবতঃ পাহাড়টা তার উপর ধসে পড়বে। আর পাপি তার গোনাহগুলোকে মাছির মত (নগন্য ও গুরুত্বহীন) মনে করে, যা তার নাকে বসে চলে যায়।  (বুখারী শরীফ, হাদীছ নং ৬৩০৮।  হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত)

5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Comment here