ইসলামে পোশাকের বিধিবিধান (২য় পর্ব)

24 বার পড়া হয়েছে।

(১ম পর্ব পড়তে ক্লিক করুন)

নবী (স.) এর প্রতি মাহাব্বাতের নিদর্শনঃ

(মাহাব্বাত শুধু আদেশসূচক ক্রিয়া তলব করে না। অনেকে বলে থাকেন — )

(১) হযরত আনাছ (রা.) এর লাউয়ের প্রতি আসক্ত হওয়াঃ

– حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: إِنَّ خَيَّاطًا دَعَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِطَعَامٍ صَنَعَهُ، قَالَ أَنَسٌ: فَذَهَبْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى ذَلِكَ الطَّعَامِ، فَقَرَّبَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُبْزًا مِنْ شَعِيرٍ، وَمَرَقًا فِيهِ دُبَّاءٌ وَقَدِيدٌ، قَالَ أَنَسٌ: «فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ مِنْ حَوْلِ الصَّحْفَةِ»، فَلَمْ أَزَلْ أُحِبُّ الدُّبَّاءَ مِنْ يَوْمِئِذٍ، وَقَالَ ثُمَامَةُ: عَنْ أَنَسٍ: «فَجَعَلْتُ أَجْمَعُ الدُّبَّاءَ بَيْنَ يَدَيْهِ» — البخارى

হযরত ইছহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবু তালহা (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আনাছ (রা.) কে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, একজন দর্জি কিছু খাদ্য প্রস্তুত করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দাওয়াত দিলেন।  আনাছ (রা.) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সে দাওয়াতে গেলাম। লোকটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে যবের রুটি ও ঝোলে ডুবানো লাউ ও শুকনা গোশত পেশ করলেন। হযরত আনাছ (রা.) বলেন, আমি দেখলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্লেটের চারিদিক থেকে লাউ খুঁজে খাচ্ছেন। সেদিন থেকে আমি সর্বদা লাউ ভালোবাসতে লাগলাম। সুমামা (র.) হযরত আনাছ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি লাউয়ের টুকরাগুলো তাঁর (স.) সামনে একত্রিত করতে লাগলাম।  (বুখারী শরীফ, হাদীছ নং ৫৪৩৯)

এই ঘটনার পর থেকে লাউ হযরত আনাছ (রা.) এর নিকট প্রিয় হয়ে গেল। মুসলিমের একটি হাদীছঃ

(2041) – وحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، وَعَاصِمٍ الْأَحْوَلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلًا خَيَّاطًا دَعَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَزَادَ، قَالَ ثَابِتٌ: فَسَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ: فَمَا صُنِعَ لِي طَعَامٌ بَعْدُ أَقْدِرُ عَلَى أَنْ يُصْنَعَ فِيهِ دُبَّاءٌ إِلَّا صُنِعَ — المسلم

হযরত আনাছ (রা.) এরপর থেকে লাউ এতই ভালোবাসতেন যে, তার জন্য রন্ধনকৃত সকল কিছুর মধ্যে লাউ দেওয়া হত।  মুসলিম শরীফের মধ্যে এসেছে,

فَمَا صُنِعَ لِي طَعَامٌ بَعْدُ أَقْدِرُ عَلَى أَنْ يُصْنَعَ فِيهِ دُبَّاءٌ إِلَّا صُنِعَ

এরপর থেকে আমার জন্য যে তরকারী রান্না করা হত তাতে লাউ দেওয়া হত, যদি তা সম্ভব হত। (মুসলিম শরীফ, হাদীছ নং ৫২২২)

এখানেও লক্ষণীয় হযরত আনাছ (রা.) লাউ খাওয়া ফরয না ওয়াজিব সে দিকে লক্ষ্য করেননি। লাউ না খেলে কোন গোনাহ হবে না, কেউ কোন বিদয়াতীও হবেন না। হযরত আনাছ (রা.) দেখেছেন লাউ আমার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পছন্দ করেছেন। কাজেই আমিও তা পছন্দ করব।  মাহাব্বাতের আলামাত হল মা’শুকের পছন্দ ও অভিরুচি অনুযায়ী আশেকের পছন্দ ও অভিরুচি পরিচালিত হওয়া। এজন্য হযরত আনাছ (রা.) সকল সময় লাউ পছন্দ করেছেন এবং তার খাদ্য তালিকায় তা রেখে দিয়েছিলেন। পোশাকের বিষয়টিও এই আলোকে বিবেচনা করা দরকার।

(২) হযরত ওয়ায়িল ইবনে হুজর (রা.) এর চুল কাটা ও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখা।  নির্দেশ নয় বরং মনোভাবের উপর চলা।

4190 – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، وَسُفْيَانُ بْنُ عُقْبَةَ السُّوَائِيُّ – هُوَ أَخُو قَبِيصَةَ – وَحُمَيْدُ بْنُ خُوَارٍ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلِي شَعْرٌ طَوِيلٌ، فَلَمَّا رَآنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «ذُبَابٌ ذُبَابٌ» قَالَ: فَرَجَعْتُ فَجَزَزْتُهُ، ثُمَّ أَتَيْتُهُ مِنَ الْغَدِ، فَقَالَ: «إِنِّي لَمْ أَعْنِكَ، وَهَذَا أَحْسَنُ» — ابو داود

[حكم الألباني] : صحيح

হযরত ওয়ায়িল ইবনে হুজর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলাম। আমার ছিল লম্বা চুল।  যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখলেন তখন বুললেন, যুবাব, যুবাব। তিনি বলেন, আমি ফিরে আসলাম।  এরপর চুল কেটে ফেললাম।  পরদিন আমি তাঁর (স.) নিকট গেলাম।  তিনি বললেনঃ আমি তোমাকে কষ্ট দেইনি। আর এরূপ চুল খুবই চমৎকার।  (আবু দাউদ শরীফ, হাদীছ নং ৪১৯০) আলবানীর তাহকীকঃ হাদীছটি সহীহ।

#এই চুল কাটাটি ফরয-ওয়াজিব ছিল না।  বরং তা ছিল আশেক-মাশুকের এক মাহাব্বাতের পরিচয়।

(৩) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) এর চাদর পুড়িয়ে ফেলা ও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখা।  নির্দেশ নয় বরং মনোভাবের উপর চলা।

4068 – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ شُفْعَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: رَآنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ أَبُو عَلِيٍّ اللُّؤْلُؤِيُّ: «أُرَاهُ وَعَلَيَّ ثَوْبٌ مَصْبُوغٌ بِعُصْفُرٍ مُوَرَّدٌ»، فَقَالَ: «مَا هَذَا؟» فَانْطَلَقْتُ فَأَحْرَقْتُهُ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا صَنَعْتَ بِثَوْبِكَ؟» فَقُلْتُ: أَحْرَقْتُهُ، قَالَ: «أَفَلَا كَسَوْتَهُ [ص:53] بَعْضَ أَهْلِكَ» قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَاهُ ثَوْرٌ، عَنْ خَالِدٍ، فَقَالَ: مُوَرَّدٌ، وَطَاوُسٌ قَالَ: مُعَصْفَرٌ — ابو داود

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার দিকে তাকালেন। আবু আলী বলেন, আমার ধারণা তিনি বলেছেন) এ সময় আমার গায়ে ছিল হলদে গোলাপী রঙ মিশানো একটি জামা।  তিনি বললেন, এরূপ কাপড় পরেছো কেন! অতঃপর আমি চলে আসলাম ও তা পুড়িয়ে ফেললাম। পরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার কাপড়টি কী করেছো? আমি বললাম, পুড়িয়ে ফেলেছি।  তিনি বললেন, তোমার পরিবারে কোন নারীকে তা ব্যবহার করতে দিলেও তো পারতে। (আবু দাউদ শরীফ, হাদীছ নং ৪০৬৮। এছাড়া পাবেনঃ ইমাম বুখারী প্রণীত আত তারীখুল কাবীর ৪র্থ খণ্ড, প্রষ্ঠা নং ২৬৭, তাবারানীর, শামীয়ীন ৫৫১ আবদুল বার প্রণীত আত তামহীদ ১৬/১২২)

#এই চাদর পুড়িয়ে ফেলাটাও কোন ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত, মুস্তাহাব ছিল না বরং তা ছিল নবীর (স.) মাহাব্বাতের এক পরম নমুনা।

شعيب الأرنؤوط: (1) إسناده ضعيف لجهالة شُفعة – وهو السَّمَعي الحمصي-.وأخرجه البخاري في “تاريخه الكبير” 4/ 267، والطبراني في “مسند الشاميين” (551)، وابن عبد البر في التمهيد” 16/ 122 من طريق إسماعيل بن عياش، به.وانظر ما سلف برقم (4066).

(৪) হযরত আলী (রা.) এর আকাশের দিকে ফিরে হাসা ও নবী আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণের প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। নির্দেশ নয় বরং রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিটি আচার-আচরণ দুনিয়াতে ধরে রাখার ও তা চালু করার এক সাধনামাত্র। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকেও যদি এমন ধরণের অনুভূতি আর আমলের তাওফীক নসীব করতেন! ইয়া আল্লাহ, আমাদেরকেও ঐ সাহাবাদের অনুসরণ করার তাওফীক নসীব করেন।  আমীন।

2602 – حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: شَهِدْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا، فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ قَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ»، فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ»، ثُمَّ قَالَ: {سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ} [الزخرف: 14]، ثُمَّ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ» – ثَلَاثَ مَرَّاتٍ – ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُ أَكْبَرُ» – ثَلَاثَ مَرَّاتٍ – ثُمَّ قَالَ: «سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ». ثُمَّ ضَحِكَ فَقِيلَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ؟ قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ كَمَا فَعَلْتُ». ثُمَّ ضَحِكَ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ؟ قَالَ: «إِنَّ رَبَّكَ يَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرِي» — ابو داود

[حكم الألباني] : صحيح

হযরত আলী ইবনে রবীয়া বলেন, আমি দেখেছি হযরত আলী (রা.) এর আরোহনের জন্য সওয়ারি আনা হল।  তিনি যখন রিকাবে পা দিলেন তখন বললেন, بِسْمِ اللَّهِ এরপর যখন তার পিঠে স্থীতিশীল হলেন অর্থাৎ বসে গেলেন তখন বললেন, الْحَمْدُ لِلَّهِ এরপর বললেন, سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ এরপর তিনবার আলহামদুলিল্লাহ বললেন তারপর তিনবার আল্লাহু আকবার পড়লেন। তারপর পড়লেন,  سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ এরপর তিনি হেসে দিলেন।  তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, হে আমিরুল মু’মিনীন! কোন জিনিস আপনাকে হাসাল? তিনি বললেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন করতে দেখেছি যেমন আমি করলাম। তিনি (স.) যখন হেসেছিলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রসূলুল্লাহ! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে কোন জিনিস হাসাল? তিনি বললেন তোমার রব বড় অবাক (খুশি) হন ঐ বান্দার প্রতি যে বলে (হে আমার আল্লাহ) আমার গোনাহসমূহকে মাফ করে দেন আর সে একথা জানে যে, আমি ছাড়া কেউ গোনাহকে মাফ করতে পারে না।  (আবু দাউদ শরীফ, হাদীছ নং ২৬০২, আলবানী বলেন, হাদীছটি সহীহ।)

# যানবাহনে বসে আকাশের দিকে ফিরে হাসা শরীয়তের কোন আবশ্যকীয় আমল নয় বরং তা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণের একটি উপমা।  যার দ্বারা মাহাব্বাত বাড়ে।

মাহাব্বাত সম্পর্কে হযরত মাহমূদ ওয়াররাক (র.) হযরত শাফী (রা.) এর সূত্রে বলেন,

(الآدب الشرعية و المنح المرعية 1\154)

تَعْصِي الْإِلَهَ وَأَنْتَ تُظْهِرُ حُبَّهُ … هَذَا مُحَالٌ فِي الْقِيَاسِ بَدِيعُ

আল্লাহর নাফরমানীতে লিপ্ত আছো আর মুখে তাঁর মাহাব্বাত করার দাবী কর- এটা নিঃসন্দেহে যুক্তিহীন ও অপাংক্তেয় দাবী।

لَوْ كَانَ حُبُّكَ صَادِقًا لَأَطَعْتَهُ … إنَّ الْمُحِبَّ لِمَنْ يُحِبُّ يُطِيعُ

বস্তুতঃই যদি তোমার দাবী সত্য হত, তাহলে অবশ্যই তুমি তার অনুগত হয়ে চলতে। কেননা, (একথা স্বতঃসিদ্ধ যে) সত্যিকারের প্রেমিক প্রেমাস্পদের অনুগত হয়ে থাকে।

এই কবিতাটি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক (র.) ও পড়তেন।

{৫} (ক) হযরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণের একটি উদাহরণ।

(খ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হুবহু অনুসরণ দুনিয়াতে টিকিয়ে রাখার এক আজীব প্রচেষ্টা।

(গ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমল দুনিয়াতে বজায় রাখতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমার (রা.) এর চেষ্টা ও নিজ ছাত্র হযরত নাফি (রহ.) কে শিক্ষা দান।

4924 – حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْغُدَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ: سَمِعَ ابْنُ عُمَرَ، مِزْمَارًا قَالَ: فَوَضَعَ إِصْبَعَيْهِ عَلَى أُذُنَيْهِ، وَنَأَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَقَالَ لِي: يَا نَافِعُ هَلْ تَسْمَعُ شَيْئًا؟ قَالَ: فَقُلْتُ: لَا، قَالَ: فَرَفَعَ إِصْبَعَيْهِ مِنْ أُذُنَيْهِ، وَقَالَ: «كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمِعَ مِثْلَ هَذَا فَصَنَعَ مِثْلَ هَذَا»، قَالَ أَبُو عَلِيٍّ الْلُؤْلُؤِيُّ: سَمِعْت أَبَا دَاوُد يَقُولُ: هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ — ابو داود

[حكم الألباني] : صحيح

হযরত নাফি (র.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা হযরত ইবনে ওমার (রা.) বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ শুনতে পেলেন।  তিনি উভয় কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে রাস্তা হতে সরে গেলেন ও আমাকে বললেন, তুমি কি ‍কিছু শুনতে পাচ্ছো? আমি বললাম না। হযরত নাফি (র.) বলেন, তিনি কান থেকে আঙ্গুল (হাত) তুলে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ছিলাম।  তখন তিনি এধরনের শব্দ শুনে এরূপ করেছিলেন। (আবু দাউদ শরীফ, হাদীছ নং ৪৯২৪। আলবানীর তাহকীকঃ হাদীছটি সহীহ।)

# বাদ্য যন্ত্রের আওয়াজ থেকে পরহেজ করা আবশ্যক। কানে আঙ্গুল দেওয়া, রাস্তা থেকে সরে যাওয়া এগুলো একটা ছবব মাত্র।  এই ছববগুলো শরীয়তের পরিভাষায় ফরয-ওয়াজিব বা সুন্নাত নয়। হযরত ইবনে ওমার (রা.) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন করতে দেখেছেন, এইজন্য তিনিও শরীয়তের পরিভাষার দিকে না তাকিয়ে সরাসরি সেই আমল করেছেন। শুধু তাই নয়, আমল জারি রাখতে তাঁর ছাত্রকেও শিখিয়ে দিলেন।  বাদ্য-যন্ত্রের আওয়াজ প্রতিরোধে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা ফরয-ওয়াজিব না হলেও অতি উত্তম বা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি অনুসরণ কি বলা যায় না? ঠিক একইভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে পোশাক ব্যবহার করেছেন, পছন্দ করেছেন, যে পোশাক পছন্দ করেছেন, যে রং পছন্দ করেছেন, আমাদেরকে পছন্দ করতে বলেছেন সেগুলোর অনুসরণকে হাছান (অতি উত্তম) বা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হুবহু অনুসরণ কি বলা যায় না? বিবেচনার অনুরোধ থাকলো।

(৬) হযরত আলী (রা.) এর দাঁড়িয়ে পানি পান করা।  অথচ ওযর ছাড়া বসে পান করাই হল প্রতিষ্ঠিত নিয়ম।

5615 – حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ عَبْدِ المَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنِ النَّزَّالِ، قَالَ: أَتَى عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَلَى بَابِ الرَّحَبَةِ «فَشَرِبَ قَائِمًا» فَقَالَ: إِنَّ نَاسًا يَكْرَهُ أَحَدُهُمْ أَنْ يَشْرَبَ وَهُوَ قَائِمٌ، وَإِنِّي «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ كَمَا رَأَيْتُمُونِي فَعَلْتُ» — البخارى

[تعليق مصطفى البغا]

5292 (5/2130) -[  ش (الرحبة) رحبة مسجد الكوفة وهو المكان الواسع أمام بابه

(يكره) يمنع (فعل) شرب قائما]

হযরত নাযযাল (র.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হযরত আলী (রা.) কুফা নগরীর) রাহবা নামক ফটকে আসলেন।  তিনি দাঁড়িয়ে পানি পান করলেন।  এরপর তিনি বললেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ দাঁড়িয়ে পান করাকে মাকরূহ মনে করে অথচ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি তোমরা আমাকে যেভাবে পানি পান করতে দেখেছো তিনিও তেমন করেছেন অর্থাৎ তেমনভাবে পানি পান করছেন। (বুখারী শরীফ, হাদীছ নং ৫৬১৫)

(৭) পারস্য বিজয়ের প্রাক্কালে যখন পারস্যরাজের সাথে আলাপ-আলোচনার জন্য প্রতিনিধিদল পাঠান হয় তখন সেই প্রতিনিধি দলের সাথে হযরত হুযাইফা (রা.) ও হযরত রিব’ঈ ইবনে আমির (রা.) ও ছিলেন। পারস্য ছিল তদানিন্তন সময়ের সুপার পাওয়ার। এই সম্মানিত সাহাবা (রা.) এর জামায়াত সাদামাঠা পোশাকে সেখানে হাযির হন। সাদাসিধা পোশাকে রাজ প্রাসাদে প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হয়। পোশাক পরিবর্তণ অথবা রাজপ্রাসাদের সরবরাহকৃত পোশাক পরিধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তা তারা ক্ষণিকের জন্যও গ্রহণ করেননি। তারা বললেন, পারস্য রাজের সাথে দেখা করতে আমরা কোন পোশাক পরিবর্তণ করতে পারব না। এই পোশাকে সম্রাট রাজি না হলে তার সাথে সাক্ষাতের কোন প্রয়োজন আমাদের নেই। {ইসলাম আওর হামারী যিন্দেগীঃ আল্লামা তাকী উছমানী (দা.ব.) খণ্ড নং ৯, পৃষ্ঠা নং ৯৮}

# সামান্য সময়ের জন্যও তারা তাদের পোশাক পরিবর্তণ করতে রাজি হননি। তারা ফরয-ওয়াজিবের প্রশ্ন না তুলে নবী (স.) এর অনুসরণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। নিজেদের স্বকিয়তাকে আঁকড়ে ধরেছেন। আর তারা স্বকিয়তা নির্ধারণ করেছেন নবী কারীম (স.) এর বেশ-ভুষা, চাল-চলনকে।

(৮) এই বৈঠকেই আপ্যায়নের ব্যবস্থা হল। হযরত হুযাইফা (রা.) এর হাত থেকে একটা খাদ্য নীচে পড়ে গেল।  তিনি খাদ্যটি উঠিয়ে নিলেন। পাশের এক সঙ্গি কনুই দিয়ে খোঁচা মেরে তাঁকে সাবধান করলেন। স্মরণ করিয়ে দিলেনঃ জাননা! এটা সুপার পাওয়ার কিসরার দরবার! এ দরবারে কিছু তুলে খেলে তারা অভদ্র-অসামাজিক মনে করবে। ভাববে এরা কোন দিন ভালো খাবার চোখে দেখেনি, তাই এমন করছে।  এতে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। হযরত হুযাইফা (রা.) তার এ কথা মেনে নিতে পারলেন না। তাঁর দ্বীনি গৌরববোধ উদ্দীপ্ত হয়ে উঠল। তিনি বললেন, أأترك سنة رسول الله صلى الله عليه و سلم لهؤلاءالحمقى “কি বলছ! এই নির্বোধদের কারনে আমি আমার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের  সুন্নাত ছেড়ে দেব?” {ইসলাম আওর হামারী যিন্দেগীঃ আল্লামা তাকী উছমানী (দা. ব.) খণ্ড নং ৯, পৃষ্ঠা নং ৯৯-১০০}

(৯) হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় মক্কাবাসীদের সাথে আলোচক হিসাবে হযরত উছমান (রা.) কে নির্বাচন করা হয়।  তিনি যখন আলোচনার জন্য যাচ্ছিলেন তখন তাঁর (রা.) পরণে ছিল লুঙ্গি। লুঙ্গিটি ছিল টাখনুর অনেক উপরে। হযরত উছমান (রা.) এর চাচাত ভাই (আবান ইবনে সায়ীদ ইবনে আস) তাকে সাময়িকের জন্য লুঙ্গিটি একটু নামিয়ে পরতে বললেন। তিনি বললেন, مَا لِي أَرَاكَ مُتَخَشِّعًا؟ أَسْبِلْ (আরে কি হল! এত বিনয় দেখালে হবে না।  আপনার লুঙ্গিটি একটু ঝুলিয়ে পরেন) তাঁর চাচাত ভাই এমনভাবে লুঙ্গি পরাকে অপছন্দ করেননি। তিনি এই জন্য বলেছিলেন যাতে মক্কাবাসীরা হযরত উছমান (রা.) কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করে। হযরত উছমান (রা.) বললেন, هَكَذَا إِزْرَةُ صَاحِبِنَا  {না তা হতে পারে না। আমাদের সাথী নবী কারীম (সা.) এভাবেই ‍লুঙ্গি পরেছেন} [মুসান্নাফে ইবন আবী শাইবা, হাদীছ নং ৩৬৮৫২] না, না আমি তা পারব না। আমাদের নবী (স.) এভাবেই লুঙ্গি পরেছেন। অর্থাৎ তারা যাই বলে বলুক না কেন, আমাকে যত তুচ্ছই ভাবুক তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার কাজ আমার প্রিয় নবী (স.) এর অনুসরণ করা। (৯/১৮১)

এখানেও হযরত উছমান (রা.)- (ক) ফরয-ওয়াজিবকে খোঁজ করেননি। বরং খোঁজ করেছেন নবী কারীম (স.) এর অনুসরণকে।  (খ) তিনি (রা.) দুনিয়ার বাহ্যিক সৌন্দর্য্য, ভৌগলিক, পরিবেশ, আবহাওয়া, নিজের পছন্দকে বিবেচনাই আনেননি। বিবেচনায় এনেছেন হযরত রসূলুল্লাহ (স.) এর অনুসরণকে। (গ) সাহাবাগণ পরিবেশের দিকে লক্ষ্য রেখে পোশাক পরতেন না। যদি তাই করতেন তবে হযরত উছমান (রা.) এর এমন পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হত না। বরং তারা লক্ষ্য রেখেছেন নবী কারীম (সা.) অনুসরণকে।

এমন ধরণের একটা দুইটা নয় অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। জমা করলে স্বতন্ত্র একটা কিতাব হয়ে যাবে।  যাইহোক, এখানে আকাশের দিকে ফিরে হাসা, কানে আঙ্গুল দেওয়া, চাদর পুড়িয়ে ফেলা কিংবা চুল কেটে ফেলা ওয়াজিব-সুন্নাত নয়। এই বিষয়গুলো আবশ্যক কিনা সেটা আমাদের চেয়ে তাঁরা বেশি বুঝতেন। তাহলে তারা এগুলো করলেন কেন? অথচ এই দলে এমন সাহাবা আছেন যিনি ইলমের শহর {হযরত আলী (রা.)}, শ্রেষ্ঠ ফকীহ (ইবনে ওমার (রা.)। উত্তর একটাই। সেটা হল, لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ ।  রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা, কাজ ও সার্বিক অবস্থার মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে।  (সূরা আহযাব, আয়াত নং ২১)

{ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (الأحزاب 21) }

لقد كان لكم -أيها المؤمنون- في أقوال رسول الله صلى الله عليه وسلم وأفعاله وأحواله قدوة حسنة تتأسون بها، فالزموا سنته، فإنما يسلكها ويتأسى بها مَن كان يرجو الله واليوم الآخر، وأكثرَ مِن ذكر الله واستغفاره، وشكره في كل حال.{الميسر}

{ في رسول الله } الذي جاء عنه لإنقاذكم من كل ما يسوءكم ، وجلاله من جلاله المحيط بكل جلال ، وكماله من كماله العالي على كل كمال ، وهو أشرف الخلائق ، فرضيتم مخالطة الأجلاف بدل الكون معه {نظم الدرر فى تناسب الآيأت و السور}

যিনি এসেছেন আল্লাহর থেকে তোমাদেরকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তোমাদের ক্ষতিকর প্রত্যেক বস্তু থেকে।  এবং প্রত্যেক ঐ

তাঁর কাছে যা এসেছে, তোমাদের জন্য যা ক্ষতিকর তা থেকে রক্ষা করার জন্য।  (তোমাদের জন্য যা ক্ষতিকর তা থেকে রক্ষা করার জন্য তাঁর কাছে যা এসেছে) আল্লাহ তায়ালার পূর্ণতায় প্রত্যেক পরিবেষ্টনকারীর পূর্ণতাদানকারী। তিনি সর্বোচ্চ সম্ভ্রান্ত, চরিত্রবান।

«كانَ» صلة ومعناها: لكم في رسول الله أسوة حسنة، به قدوتكم، ويجب عليكم متابعته فيما يرسمه لكم. وأقوال الرسول (ض) وأفعاله على الوجوب إلى أن يقوم دليل التخصيص،

তোমাদের জন্য যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সেটার উপর আমল করা তোমাদের জন্য ওয়াজিব।  আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল কথা ও কাজ ওয়াজিবের উপরই বুঝিয়ে থাকে। তাখসীসের দলীল পাওয়া গেলে।

فأما أحواله فلا سبيل لأحد إلى الإشراف عليها،

অতঃপর তাঁর অবস্থাগুলো কারো জন্য পযবেক্ষণ করার সুযোগই নেই।

فإن ظهر شىء من ذلك بإخباره أو بدلالة أقواله وأفعاله عليه فإن كان ذلك مكتسبا من قبله فيلحق في الظاهر بالوجوب بأفعاله وأقواله، وإن كان غير مكتسب له فهى خصوصية له لا ينبغى لأحد أن يتعرّض لمقابلته لاختصاصه- صلى الله عليه وسلم- بعلوّ رتبته {لطائف الأشارات –تفسير القشيرى}

(হ্যাঁ) তবে যদি ঐ অবস্থাগলো তাঁর কোন খবরের দ্বারা অথবা তাঁর কথা, কর্ম দ্বারা কোন হুকুম প্রকাশ পায় তবে (তার দু’টি অবস্থা) যদি ঐ অবস্থাটা তাঁর পক্ষ থেকেই পাওয়া যায় তবে বাহ্যিকভাবে তাঁর (স.) কথা কর্মের কারণে সেটা ওয়াজিব বলে গণ্য হবে আর যদি গাইরে মুকতাছার হয় তবে তা তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট হবে সেটি তাঁর জন্যই খাছ হওয়ার কারণে ও তাঁর উচ্চ মযাদার কারণে।

এবং রসূলুল্লাহ (স.) এর কথা ও কর্ম সবটাই আমাদের জন্য ওয়াজিব যতক্ষন না তাকসীসের কোন দলীল পাওয়া যায়।

তবে তাঁর আহওয়ালা সমূহের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার কোন উপায় কারো জন্য নেই।  তবে এর মধ্য থেকে কোন বিষয় যদি প্রকাশ পায় রসূলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অথাবা তাঁর কথা কাজ সেই দিকে ইঙ্গিতবহ হওয়ার মাধ্যমে।  সে ক্ষেত্রে সে আহওয়াগুলো যদি তার অর্জিত বিষয় হয় তাহলে বাহ্যিকভাবে তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে সেটা ওয়াজিব হওয়ার মধ্যে গণ্য হবে।  আর যদি অর্জিত বিষয় না হয় তাহলে সেটা একমাত্রই তাঁর বৈশিষ্ট্য।  কারো জন্য সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার অধিকার নেই। কেননা সেটা তাঁর জন্যই খাছ।  উচ্চ মযাদার অীধকারী হওয়ার কারণে।

(৩য় পর্ব পড়তে ক্লিক করুন)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x